মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৩

“Long Term strategic plan and 3rd quarter M&E 2013” – সম্মেলন উপলক্ষ্যে এডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেক্টরের বাণী




এম মাঈনউদ্দিন মইনুল
এডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেক্টর
গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ



এডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্টের সকলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলনে সকলকে আন্তরিক অভিবাদন জানাচ্ছি।
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই এডমিনিস্ট্রেটিভ ডিপার্টমেন্ট তার সম্পদ, মানব সম্পদ ও লজিস্টিক্স সহযোগিতা দিয়ে অপারেশনাল কাঠামো ধরে রাখে। প্রকল্প, কর্মসূচি এবং কার্যক্রম বৃদ্ধির কারনে গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ এর জন্যও দক্ষ ও পরিপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। কান্ট্রি ডিরেক্টরের আন্তরিক তত্ত্বাবধানে বিগত কয়েক বছরে আমাদের কর্মীদের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন সময় এর যথাযথ ব্যবহার ও উত্তরোত্তর উন্নয়নের।
গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ-এর পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো: ক) প্রোগ্রাম ভিত্তিক আয়ের মাধ্যমে সিডিপি ভিত্তিক সার্মথ্য বৃদ্ধি করা (পিআইজি), খ) যথাযথ সম্পদ ও ইনভেন্টরির ব্যবস্থাপনা, গ) কুইকবুকস সিস্টেম এর উত্তরণ। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে ভাল পর্যায়ে রয়েছে, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরো উন্নয়ন করতে হবে। আমাদেরকে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে বিশেষ করে প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং ইনভেন্টরি তত্ত্বাবধানে আরো উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা যেভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

সিডিপি ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ অডিট-এর পূর্বে প্রাক-অডিট প্রক্রিয়া নামে আর একটি বিষয় সংযুক্ত করেছি। প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য, আমরা জিএনবির সাথে যারা কাজ করতে আগ্রহী সে সকল সরবরাহকারী/ভেন্ডরদেরকে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছি। যেহেতু ভকেশনাল প্রশিক্ষণ আমাদের পিআইজি এবং সামর্থ্যবৃদ্ধির একটি অভিচ্ছেদ্দ অংশ, সেহেতু আমরা পরবর্তী তিন বছরে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে ভকেশনাল প্রশিক্ষণকে একটি ব্রান্ড হিসেবে উন্নয়নের চেষ্টা করব। মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য আমরা কিছু পারস্পরিকভাবে উপকারী কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি যা ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর হবে।
সকলের জন্য একটি সফল সম্মেলন কামনা করছি।

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

মানুষ মানুষের জন্যে


সীতা রানীর গল্প

 সীতা রানী বয়স ৩২, গ্রাম নিয়ামতপুর , উপজেলা পীরগঞ্জ, জেলা - ঠাকুর গাঁও একজন গরীব মহিলা যার স্বামী একজন দিনমুজুর। চারটি মেয়ে স্কুলে যায় এবং এদের মধ্যে দুইজন মেয়ে গুডনেইর্বাস বাংলাদেশ (জিএনবি) নামক একটি বেসরকারী আর্ন্তজাদিক সংস্থার সাহায্য ও সহযোগীতায় লেখাপড়া করে আসছে। সীতা রানী  জিএনবি পরিচালিত পীরগঞ্জ কৃষক সমবায় সমিতির একজন স্বক্রীয়  সদস্য। বড় মেয়ে মামনি রায় সপ্তম  শ্রেনীর ছাত্রী। প্রতিদিন মেয়েটি মলিন চেহারায় স্কুলে আসেন  যাহা একদিন তার শ্রেনী শিক্ষকের নজরে আসে । কারণ জানতে চাইলে সে বলে তার মা অসুস্থ্য এবং এমন রোগে আক্রান্ত যাহা চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই। অর্থাৎ তার মার হৃতপিন্ডের একটি বাল্ব নষ্ট হয়েগেছে।

বিষয়টি জিএনবি এর স্থানীয় কর্মকর্তাদের নজরে আসে এবং তারা প্রথমেই সীতা রানীকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতারে প্রেরণ করেন। ডা. অমল কুমার চৌধুরী পরীক্ষা নীরিক্ষা করে রোগীকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ডা. এসএএম সবুর সাহেবের নিকট পাঠান। ডা. সবুর পরীক্ষা নীরিক্ষা করে সিদ্ধান্তে আসেন যে সিতা রানীর হৃতপিন্ডে বিকল বাল্বটি পরিবর্তন  করে নতুন বাল্ব প্রতি স্থাপন করতে হবে।
জিএনবি প্রধান কার্যালয় ঢাকা সীতা রানীকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ঢাকা থেকে ১,৭৮,০০০ টাকা ব্যয় করে গত ৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে অপারেশন করান। জিএনবি পরিচালিত পীরগঞ্জ কৃষক সমবায় সমিতি ও বীরগঞ্জ মহিলা সমবায় সমিতি মোট টাকার শতকরা ৮৭ ভাগ বহন করেন। বাকী টাকার ৫% সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি, ৫% রোগীর পরিবার এবং ৩% গুডনেইর্বাস বাংলাদেশ এর স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ বহন করেন।
সকলের অংশগ্রহনে জয় হলো মানবতার ,জয় হলো সমবায় সমিতির। হাঁসী ফোটলো সীতা রানীর মেয়ে এবং স্বামীর মুখে। সীতা রানী এবং তার পরিবার প্রর্থনা করলেন জিএনবির কান্ট্রি ডিরেকটর , ম্যানেজিং ডিরেটর, অপারেশনাল ডিরেকটর ও পীরগঞ্জ অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য যারা সীতা রানীর নতুন জীনব পেতে সহায়তা করলেন। প্রসঙ্গ ক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে যে জিএনবি বাংলাদেশে ১৩ টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭,০০০ শিশু এবং তাদের পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমবায় সমিতি পরিচালনা, নিরাপদ পানি ও লেট্রিন ব্যবহারের সুযোগ ও মহিলা উন্নয়নে ১৯৯৬ সন থেকে  কাজ করে আসছে।
গত ২০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখ বিকাল ৪টা সময় সীতা রানী সুস্থ্য দেহে হাসপাতাল থেকে বেড় হয়ে তার ছোট ভাই এর সাথে হাসপাতালে নিকটেই তার মামার বাসয় উঠেন। তিন দিন পর অপারেশনের সেলাই কেটে দিলে বাড়ী ফিড়ে যাবেন।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

শিশুবিবাহ প্রতিরোধে সেপ্টেম্বর মাসে গুডনেইবারস বাংলাদেশ এর সাফল্য



শিশু পরিষদের সহযোগিতায়  নুপুরের বিবাহ রোধ :


নুপুর আক্তার
মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্রতার কারণে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী  নুপুরের অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো । মাত্র ১১ বছর বয়সে তার বিয়ে ঠিক করা হয়। সমবায় সমিতির সদস্যের মাধ্যমে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল প্রজেক্ট অফিসে শিশুটির বিয়ের খবর আসলে এই প্রকল্পের শিশু পরিষদের সদস্যরা এবং অফিসের কমীবৃন্দ গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ এ নুপুরদের বাড়িতে যায় ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে শিশু বিবাহের শারিরীক ও মানসিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে। অবশেষে তার বাবা-মা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা তাদের মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে কথা দেন। নুপুর এখন পূর্বের চেয়ে আরো মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে।




বিয়ের আসর থেকে রক্ষা করা গেল মীম খাতুনকে :

মীম খাতুন
লেখাপড়ায় মেধাবী মীম জানতেও পারেনি তার জীবনে বেড়ে ওঠার স্বপ্নের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। হঠাৎ করে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিলে উদ্বিগ্ন হন গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকারা। কমিউনিটি ফেসিলিটেটর এর মাধ্যমে জানা যায় যে ২৭ সেপ্টেম্বর তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরে সিআরসি সদস্যবৃন্দ, স্কুলের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা, অফিসের কর্মীবৃন্দ এবং ইউনিয়ন মেম্বার মীমদের বাড়ি যান। বাড়ি পরিদর্শনে তারা গিয়ে দেখেন, বিয়ের গেট সাজানো হয়েছে, আত্মীয় স্বজন সকলে চলে এসেছে এবং সমস্ত আয়োজন করা হয়েছে। শিশু পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্কুলের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা ও প্রকল্পের কর্মীবৃন্দ তার বাবা-মা, আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা বিয়ে বন্ধ করতে রাজী হচ্ছিলেন না। শিশু পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্কুলের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা ও অফিসের কর্মীবৃন্দ অনেক বোঝানোর পরে মীমের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার বাবা ও মা মীমের বিয়ে বন্ধ করেছে। মীম এখন আগের মত নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।

ইভ-টিজিং, অতপর শিশু হালিমার বিবাহের চেষ্টা :

হালিমা খাতুন
কৃষিকাজ করে অনেক কষ্ট করে সংসার চালালেও ঘাটাইল সু প্রতিবেশী প্রাইমারি স্কুল এর ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী হলিমার বাবা জামাল বাদশার হালিমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন। স্বপ্ন পুরণে হালিমাও এগিয়ে চলছিল। কিন্তু কিছু দিন ধরে স্থানীয় একটি ছেলে হালিমাকে বিরক্ত করে আসছিল। রাস্তায় বের হলেই তাকে আতংকে চলাফেরা করতে হতো। তার পরিবার অনেক চেষ্টা  করেও সে আতংক থেকে রেহাই পায়নি বরঞ্চ দিনে দিনে জ্বালাতনের মাত্রাটা বেড়েই চলছিল। এর প্রেক্ষিতে হালিমার বাবা ও মা তাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবর পেয়ে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল প্রকল্পের কর্মীগণ এবং শিশু পরিষদের সদস্যরা হালিমার বাড়ি পরিদর্শন করে ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে। শিশু পরিষদের সদস্যরা বলে- “দারিদ্রতার কারণে হালিমার বিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু বিয়ের পরে যে আরো সমস্যা সৃষ্টি হবে”। অল্প বয়সে বিয়ে দিলে কিকি সমস্যা হয় তা তার পরিবারের কাছে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হালিমার পরিবার হালিমার বিয়ে দেবে না বলে কথা দিয়েছে। হালিমা এখন নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে।

শিশু রুবির বিয়ে রোধ :

রুবি
পারিবারিক অস্বচ্ছলতার জন্য বিয়ে দেয়া হচ্ছিল ১১ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেনির ছাত্রী রুবিকে। শিশু পরিষদের এক সদস্যের কাছ থেকে খবর পেয়ে জিএনবি মৌলভীবাজার প্রজেক্টের কর্মীরা  শিশু পরিষদ সদস্যদের নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর রুবিদের বাসায় যান এবং শিশু বিবাহের কুফলগুলো তাদের বুঝিয়ে বলেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের ভূল বুঝতে পারে এবং বিয়েটি বন্ধ করে।